পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, মীমাংসার নামে পরিবারকে ভিটা ছাড়ার হুমকির অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
নিজস্ব প্রতিবেদক, পিরোজপুর:
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিচার চাইতে থানায় যাওয়ার পথে শিশুটির বাবা ও চাচাকে মারধর, আইনি পদক্ষেপে বাধা এবং ভিটা ছাড়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঠবাড়িয়া উপজেলার দক্ষিণ বড় মাছুয়া গ্রামে। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই এলাকার জেলে মো. রুহুল আমীনের মেয়ে। অভিযুক্ত কিশোর একই এলাকার আবু জাফর খানের ছেলে ঈসা খান (১৬)। আর অভিযুক্ত বিএনপি নেতার নাম মীর মনির উদ্দিন ছগীর (সগীর মীর), তিনি স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সদস্য।
ঘটনার বিবরণ
শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, গত ৩ সেপ্টেম্বর সকালে শিশুটির মা পাশের বাড়িতে গেলে সেই সুযোগে ঈসা খান তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। এ সময় বাড়িতে থাকা শিশুটির ১১ বছর বয়সী বড় ভাই বোনকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে অভিযুক্ত কিশোর তাকে গলাটিপে ধরে। পরে বড় ভাইয়ের চিৎচারে অভিযুক্ত কিশোর পালিয়ে যায়।
শিশুটির মা জানান, ঘটনার পর মেয়েটি ব্যথায় কান্নাকাটি করলে তিনি তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান। ঘটনার সময় শিশুটির বাবা সাগরে মাছ ধরার ট্রলারে থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বিষয়টি জানানো সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তিনি সাগর থেকে ফিরে এলে পরিবার তাকে বিষয়টি জানায়।
থানায় যেতে বাধা ও মারধরের অভিযোগ
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার শিশুটির বাবা-মা ও চাচা বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ করতে রওনা হন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা সগীর মীর তাদের পথরোধ করেন এবং বিচার ও মীমাংসার নামে তাদের ডেকে নিয়ে মারধর করেন। পাশাপাশি মামলা না করে এলাকা ছেড়ে ভিটা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত কিশোরের পরিবারের বিরুদ্ধে এর আগেও এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কিশোর ঈসা ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা সগীর মীর দাবি করেন, “মেয়েটির বাবা আমাকে কল করেছিল, আমি ডেকে বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছি। মেয়ের বাবা ও চাচা মাদক ব্যবসায়ী, তাই তাদের মারধর করা হয়েছে।”