মধ্যরাতে মোবাইলের আলোয় কবর খোঁড়া হলো সাঈদী মামলার বাদী মানিক পশারীর
বিশেষ প্রতিনিধি |
গোপন ও চরম থমথমে পরিস্থিতিতে সম্পন্ন হলো যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন। কোনো লোকবল বা প্রতিবেশীর সহায়তার অভাবে মধ্যরাতে মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে নিজের বাবা মানিক পশারীর কবর খুঁড়তে বাধ্য হয়েছেন তাঁর মেয়ে ও দুই বোন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর নিরাপত্তাহীনতা ও নানামুখী আতঙ্কের কারণে স্বাভাবিকভাবে জানাজা বা দাফনের সুযোগ পাননি স্বজনরা। জানাজায় শরীক হওয়া তো দূরের কথা, কবর খোঁড়ার কাজেও এগিয়ে আসেননি আশপাশের অধিকাংশ মানুষ।
এমন পরিস্থিতিতে গভীর রাতে পরিবারের নারী সদস্যরাই হাত লাগান শেষকৃত্যের কাজে। মোবাইলের টর্চ বা লাইটের সামান্য আলো জ্বালিয়ে কোদাল দিয়ে কবর খুঁড়তে দেখা যায় মানিক পশারীর মেয়ে ও দুই বোনকে। নিস্তব্ধ রাতে চোখের পানি আর আতঙ্কের মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হয় কবর তৈরির কাজ। পরবর্তীতে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তাঁর লাশ দাফন করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা মামলার অন্যতম বাদী ও সাক্ষী ছিলেন।
মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম আতঙ্ক ও অস্বস্তিকর পরিবেশ বিরাজ করছে।