সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েও পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার ভেরিফিকেশনে নিয়োগবঞ্চিত হয়েছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার মো. জাহিদ হাসান। মঠবাড়িয়া উপজেলায় সুপারিশপ্রাপ্ত ৮৩ জন প্রার্থীর মধ্যে তার মেধাক্রম ছিল ৫৪তম। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোটায় আবেদন করে এই সফলতা অর্জন করলেও শেষ পর্যন্ত নিয়োগপত্র হাতে না পাওয়ায় ভেঙে পড়েছেন জাহিদ ও তার পরিবার।গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের মাঝে নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু হয়। নির্ধারিত দিনে অন্য প্রার্থীরা আনন্দচিত্তে নিয়োগপত্র গ্রহণ করলেও জাহিদের কপালে তা জোটেনি। পুলিশ ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) ভেরিফিকেশনে তাকে ‘অনুপযুক্ত’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন তিনি, যার কোনো স্পষ্ট বা সন্তোষজনক কারণ এখনও তাকে জানানো হয়নি।পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান ২৮ বছর বয়সী জাহিদ। তার বাবা আবু জাফর হাওলাদার একজন কৃষক এবং মা জাহানারা বেগম গৃহিণী। অভাব-অনটনের সংসার হলেও পড়াশোনায় কখনো পিছু হটেননি জাহিদ। সাপলেজা মডেল হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ডক্টর রুস্তম আলী ফরাজী কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার গৌরব অর্জন করেন তিনি। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে ভর্তি হয়ে সেখান থেকেই সফলতার সঙ্গে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।কান্নাজড়িত কণ্ঠে জাহিদ বলেন, ‘আমি অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছি। এখন ভেরিফিকেশনের কারণে নিয়োগ না পাওয়ায় আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা গভীরভাবে হতাশ। খবরটি শোনার পর মা কান্না করেছেন, বাবাও স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন। আমাকে কেন বাদ দেওয়া হলো, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাই।’জাহিদের দাবি, তার জীবনে কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবি ছিল না এবং তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ফৌজদারি মামলা বা অভিযোগও নেই। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কোটার একজন যোগ্য প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও তাকে কেন বাদ দেওয়া হলো—তা তার বোধগম্য নয়। সাপলেজা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দেলোয়ার মোল্লাসহ স্থানীয়রা জানান, জাহিদ ও তার পরিবার অত্যন্ত সৎ ও ভালো মানুষ, কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।এদিকে ভেরিফিকেশনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে তাকে দ্রুত নিয়োগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন জাহিদ। নিয়োগপত্র না পাওয়ার দুঃসংবাদটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ গ্রুপে শেয়ার করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সচেতন মহলে তীব্র হতা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এই অযৌক্তিক ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু তদন্ত ও জাহিদের ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।