মিল্টন সমাদ্দারের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানুষের অঙ্গ প্রতঙ্গ বিক্রি করার অভিযোগ পুরাতন নতুন করে আবারও তার অপরাধ সামনে এলো৷
————–
আপনারাই তো বলেছিলেন এই কাজের প্রতিদান পাবো। পেয়েছি ভাই😊
বৃদ্ধা মহিলার চিকিৎসার জন্য টানা ৩-৪ দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। আপনাদের কাছ থেকে অর্থ সহযোগিতা নিয়ে ওনাকে ঢাকায় এনেছি মিল্টন সমাদ্দার পরিচালিত “Child & Old Age Care” প্রতিষ্ঠানে।
প্রথমে তারা মহিলাকে রাখতে প্রতি মাসে ১৮০০০ হাজার টাকা দাবি করে। আমরা তাও দিতে রাজি হই। পরবর্তীতে তারা আবার না করে দেয়। আমি ফেসবুকে টাকা চাওয়ার বিষয় নিয়ে একটি পোস্ট করি। তারপর সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে মিল্টন সমাদ্দার আমাকে বলে জিডি নিয়ে আসেন ওনাকে রাখবো। তখন পর্যন্ত সে আমাকে চেনে না।
আমি কাগজপত্র রেডি করে ঢাকা রওনার সময় তাকে বিষয়টি অবগত করি। সে তখন আমাকে চিনতে পারে এবং যথেষ্ট ভালো ব্যবহারের মাধ্যমে তার প্রতিষ্ঠানে যেতে বলে। আমরা আজ বুধবার রাত ২:৩৩ ঘটিকায় তার প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাই।
পৌঁছানোর পর তার ম্যানেজার দেবাশীষ প্রথমে দেখা করে। এরপর একে একে অনেকে আসতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পর মিল্টন সমাদ্দার আসে। আমি তার সাথে কথা বলার জন্য এগিয়ে যাই।
⛔ কথার বলার শুরুতেই সে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে। আমার পোস্টে তাকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে এই বলে আমাকে গালিগালাজ করে এক পর্যায়ে সে আমার গায়ে হাত তোলে। আমার চোখে আঘাত করে। আমার গেঞ্জি ধরে চড় মারে। আমার বুকে ক্ষত হয়। আমাকে ছাড়াতে যায় তারই কর্মী দেবাশীষ। ছাড়ানোর নাম করে আমার গলা চেপে ধরে। শাষ বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো আমার।
আমার সাথে থাকা ইলিয়াস ভাইকেও মারধর করে।
আমরা এমন একটা জায়গায় আটকে গিয়েছি যেখানে টু-শব্দটুকু করার সুযোগ নেই। ২০-২৫ জন লোকের সামনে আমরা মাত্র ৩ জন। আমাদের মারধরের সময় ওখানকার বৈদ্যুতিক লাইট বন্ধ করে দেয়।
কিছুই করার ছিলো না। কারণ ঐ জায়গাতে যাওয়া আসার রাস্তা একটাই। তাই বের হওয়ার কোনও পথ ছিলো না। এমন একটি নির্জন এলাকায় তার প্রতিষ্ঠান, দিনের আলোতে যেতেও আপনার গা শিউরে উঠবে। আমাদের অন্য রাস্তা দিয়ে বের হওয়ার পথ ছিলো না।
কিছুক্ষণ পরে তারা আমার কাছ থেকে ভয় ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নেয়। হয়তো তাদের পেজে দেখতে পারবেন।
ওখানে যাওয়ার রাস্তা এবং শুনশান নিরবতা দেখে কিছু একটা হতে পারে ভেবে নিজেদের লাইভ লোকেশন কয়েকজন পরিচিতদের কাছে পাঠাই এবং মোবাইলে অডিও রেকর্ড অন করে রাখি। পুরো ঘটনা আমার কাছে ওডিও রেকর্ড আছে।
বৃদ্ধা মহিলাকে তারা রেখে দিয়েছে। কিন্তু আমরা এই উপকারের প্রতিদান পেয়েছি।
ওখান থেকে কোনোভাবে বের হয়ে এসে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নেই। চোখের পরীক্ষা এবং এক্সরে করি। প্রেসক্রিপ্শন এবং ঔষধ নিয়ে ঢাকাতেই আছি।
এই ঘটনার বিচার কাউকে দিচ্ছি না। এই দেশে বিচার হয় না। এই ঘটনার জন্য উল্টো আমাদের বিচার হবে এটা জানি।
পরিশেষে একটাই কথা, আসলে কিছু বলার নেই।
নাহিদ হাসান
(২৬-০৮-২০২৬)