শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়া জাল সনদে গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজনন কর্মী ও পশু চিকিৎসক! পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় পিতা-পুত্রের কারসাজি
মঠবাড়িয়া উপজেলার ৬নং টিকিকাটা ইউনিয়নের ভেচকি গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রিয়াজ এবং তার বাবা মোঃ মহারাজের বিরুদ্ধে কোনো স্বীকৃত শিক্ষাগত যোগ্যতা বা বৈধ সনদ ছাড়াই গবাদিপশুর কৃত্রিম প্রজননকর্মী (এআইটি) ও পশু চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্র ও অনুসন্ধানে জানা যায়, রিয়াজ প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের (ডিএলএস) ভুয়া ও জাল সনদ বানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কৃত্রিম প্রজনন কর্মী হিসেবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে তার বাবা মোঃ মহারাজও দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পশু চিকিৎসক পেশায় নিয়োজিত। অভিযোগ রয়েছে, মহারাজ পঞ্চম শ্রেণির গণ্ডিও পার হননি, অথচ কোনো প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা ছাড়াই তিনি পশু চিকিৎসকের ভূমিকায় কাজ করে আসছেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়ে জানতে চাইলে মোঃ রিয়াজ দাবি করেন, তিনি ২০১২ শিক্ষাবর্ষে মাদ্রাসা বোর্ড থেকে দাখিল পাশ করেছেন এবং এসিআই কোম্পানির প্রশিক্ষণ নিয়ে এ কাজে নিযুক্ত হয়েছেন। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ দেখতে চাইলে তিনি জানান, দাখিল পাশের ১৪ বছর পার হলেও তিনি নাকি আজও বোর্ড থেকে মূল সার্টিফিকেট উত্তোলন করেননি। একজন ব্যক্তি পাস করার দেড় দশক পরও কেন মূল সনদ তুলবেন না—এ নিয়ে স্থানীয় ডেইরি খামারি ও সচেতন মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ভুয়া কাগজের ওপর ভর করেই তিনি এই সেবা দিচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
এ বিষয়ে মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার ডাঃ মোহাঃ নুর আলম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি পূর্বে অবগত ছিলেন না। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অনভিজ্ঞ ও সনদহীন ব্যক্তিদের এমন সংবেদনশীল কাজে লিপ্ত থাকায় এলাকার গবাদিপশুর প্রজনন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় খামারিরা। এ বিষয়ে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।