বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিজেকে ‘সমন্বয়ক’ ও ‘জুলাইযোদ্ধা’ দাবি করা এএনএম আয়াস আসলে একজন সাজানো ভুয়া চিকিৎসক এবং হত্যা মামলার আসামি। তদন্তে পাওয়া নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তার আসল নাম মোহাম্মদ আল উজ্জল আহমেদ। পূর্বে ভুয়া পরিচয়ে অস্ত্রোপচার করে রোগী হত্যার অভিযোগে কারাবরণকারী এই ব্যক্তি তার অতীত ঢাকার উদ্দেশ্যে নাম ও বয়স পরিবর্তন করে আন্দোলনকারীদের সাথে মিশে যান।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফারহানা শান্তা নামে এক নারীর সাথে হাতাহাতির একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তার অন্ধকার অতীত উন্মোচিত হয়। পরবর্তীতে ময়মনসিংহ কারাগারের নথি ও জালিয়াতি করে তৈরি জন্মনিবন্ধন সনদ প্রকাশ্যে আসলে সাধারণ শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের আয়োজকদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
জালিয়াতির মাধ্যমে ৭ বছর বয়স হ্রাস
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অনুযায়ী, তার প্রকৃত নাম মোহাম্মদ আল উজ্জল আহমেদ, পিতা: মোস্তফা কামাল, মাতা: খোরশেদা খাতুন এবং জন্মতারিখ ১৮ নভেম্বর ১৯৯৮ (বর্তমান বয়স ২৭ বছর)। ঠিকানা ময়মনসিংহের বাঘমারা।
তবে আন্দোলনের সময় তিনি ‘আল নুর মোহাম্মদ আয়াস’ নামে জাল জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহার করেন। সেখানে বাবা-মায়ের নাম অপরিবর্তিত রেখে জন্মসাল ২০০৫ দেখানো হয়। এনআইডির তথ্য গোপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে বয়স ৭ বছর কমিয়ে নিজেকে কিশোর শিক্ষার্থী পরিচয়ে আন্দোলনে যুক্ত করেন তিনি।
হত্যাকাণ্ড ও অপচিকিৎসার রেকর্ড
ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি ফাঁস হওয়া প্রিজনারস কার্ড (পিসি কার্ড নম্বর: ৩০৪০৭/২২) অনুযায়ী, উজ্জল নিজেকে সার্জন পরিচয় দিয়ে ময়মনসিংহে একটি অস্ত্রোপচার চালান, যার ফলশ্রুতিতে রোগীর মৃত্যু হয়। এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন।
আর্থিক প্রতারণা ও আত্মগোপন
ইমতিয়াজ নাদভী নামে এক ব্যক্তির সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহে একটি ভবন ভাড়া নিয়ে ভুয়া ক্লিনিক পরিচালনা করতেন উজ্জল। প্রায় ১৬-১৭ লাখ টাকা বকেয়া রেখে তিনি ক্লিনিকটি গুটিয়ে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে নিজেকে ক্যানসার আক্রান্ত দাবি করে চিকিৎসা সহায়তার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপন করেন এই ব্যক্তি।
#NewsUpdate #Banglanews #sangbadsutra