আসসালামু আলাইকুম।
সম্প্রতিক সময়ে মব সন্ত্রাস বা দলবদ্ধ সহিংসতা দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, বিচার বহির্ভূত আক্রমণ এবং বিশৃঙ্খলার কারণে সামাজিক নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক আগে থেকেই আস্থা হীনতা তৈরি হয়েছে। সমাজের এক শ্রেণীর মানুষ কোন কিছুরই তোয়াক্কা করছে না। আর এই কারণেই সমাজে মব সন্ত্রাসের অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। এতে করে সামাজিক নিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ অনেক ক্ষেত্রে অপরাধ নির্মূলের জন্য যথেষ্ট নয়। সাধারণ মানুষের মধ্যে ভেঙে পড়া সেই আস্থা মেরামত করতে হলে প্রথমেই মব সন্ত্রাসের লাগাম টানতে হবে সরকারকে।
মবতন্ত্র কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক সমাজের অংশ নয়। এটি গণতন্ত্রের বিপরীত শক্তি। ধর্মের নামে, সংস্কৃতির নামে কিংবা ন্যায় বিচারের নামে যে কোনো ধরনের মব সন্ত্রাসকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দৃঢ়তা এবং সামাজিক সচেতনতা।
মানুষের উগ্র মনোভাব, প্রতিহিংসা, লোভ, আইন শৃঙ্খলা ব্যবস্থার দুর্বলতা, অস্ত্রের চালান, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জামিন, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিদ্বেষ এবং দখলের প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে তুলছে মব সন্ত্রাসের মতো অপরাধ।
অপরাধের বিচার না হওয়া বা বিলম্বিত হওয়ার পেছনে প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ রয়েছে। বহু বছর ধরেই এমনটা হয়ে আসছে, সকল সরকারের সময়ে প্রভাবশালী মহল বলে একটা মহল থাকে। এই মহল কারা, কিভাবে কাজ করে, কাদের ধারা কাজ করে এই তথ্য আইন রক্ষাকারী ব্যক্তিরা জানলেও বিভিন্ন কারনে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন না।
শুধু রাজনৈতিক সরকার নয়, ২০২৪ সালের অন্তবর্তী সরকারের ভেতরেও এই প্রভাবশালীদের চক্কর দেখা গেছে। এই প্রভাবশালীদের কারণেই বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু হয়েছে। মব সন্ত্রাসের মতো অপরাধ করবে কিন্তু বিচারের মুখোমুখি হবে না, এটাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক কালচার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মব সন্ত্রাস বা গনপিটুনির মত আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা যেকোনো সভ্য সমাজের আইন-শৃঙ্খলা ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিকদের জীবন মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।
লেখক –
মোঃ ইলিয়াস হোসেন মাঝি
কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক।