নিজস্ব প্রতিবেদক, মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর):
শরতের নীল আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘের ভেলা আর মৃদু বাতাসে দুলতে থাকা সারি সারি কাশফুল—সব মিলিয়ে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাপারীবাড়ি-সংলগ্ন মাঠ এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, সবুজ মাঠজুড়ে কেউ যেন বিছিয়ে দিয়েছে শুভ্রতার এক বিশাল চাদর।
প্রতিদিন বিকেল হলেই এই কাশবন ঘিরে বাড়তে থাকে মানুষের আনাগোনা। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠছেন। আবার তরুণ-তরুণীদের অনেকেই ব্যস্ত কাশফুলের সঙ্গে ছবি ও ভিডিও ধারণে। শিশুদের ছোটাছুটি আর দর্শনার্থীদের হাসি-আড্ডায় বিকেলের পর পুরো এলাকা হয়ে উঠছে মুখর।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকেই কেবল নয়, ছুটির দিনগুলোতে দূর-দূরান্ত থেকে আরও বেশি মানুষ ছুটে আসছেন এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে। মেঘলা আকাশ ও হালকা বাতাস কাশফুলের শুভ্রতার সঙ্গে যোগ করেছে বাড়তি মাত্রা।
ঘুরতে আসা রাহাত হোসেন বলেন, ‘দিনভর এখানে নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। শিশুদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস, পরিবার-পরিজনের আড্ডা আর তরুণদের ছবি তোলা—সব মিলিয়ে জায়গাটি বেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। কাশফুলের সঙ্গে ছবি তুলতে খুব ভালো লাগছে।’
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর শরৎ মৌসুমে এই মাঠে কাশফুল ফুটলেও এবার দর্শনার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশ অনেক বেশি। তবে এর পাশাপাশি তারা মঠবাড়িয়ার বিনোদন সংকট নিয়ে ক্ষোভ ও দাবির কথাও জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ঘুরতে আসা সাইফুল ও জান্নাতুল ফেরদৌসী বলেন, ‘মঠবাড়িয়ায় তেমন কোনো বিনোদনকেন্দ্র নেই। শিশুদের এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সুস্থভাবে একটু ঘুরতে বের হওয়ার মতো পর্যাপ্ত জায়গাও নেই। বাধ্য হয়েই মানুষ এমন প্রাকৃতিক জায়গায় ছুটে আসে। তবে মানুষের বিনোদন ও অবসর কাটানোর সুযোগ তৈরি করতে উপজেলায় পরিকল্পিতভাবে একটি ভালো বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলা উচিত।’