গর্ভকালীন পড়াশোনা ও নবজাতক সন্তানকে সামলে সাফল্য, শেষ পর্যন্ত ভেরিফিকেশনে বাদ পিরোজপুরের সুমাইয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক:
গর্ভকালীন নানা শারীরিক জটিলতা ও নবজাতক কোলজুড়ে থাকার পরও থেমে থাকেননি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নের অদম্য নারী সুমাইয়া। চরম প্রতিকূলতা জয় করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার সব ধাপ সফলভাবে পেরিয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতও হয়েছিলেন তিনি। তবে এত অর্জনের পরও শেষ পর্যন্ত হাতে পাননি কাঙ্ক্ষিত নিয়োগপত্র। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার ভেরিফিকেশনে অযৌক্তিকভাবে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এই মেধাবী নারী।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সুমাইয়া স্থানীয় সাফা হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং পিরোজপুর মহিলা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। এরপর ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে পিরোজপুর সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের গণিত বিভাগে ভর্তি হন এবং বিভাগ থেকে প্রথম স্থান অধিকার করে সফলতার সঙ্গে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। স্নাতক সম্পন্ন করার পর ঢাকায় কোচিং করে বিসিএস ও চাকরির প্রস্তুতি নেন তিনি। পরবর্তীতে অসুস্থতাজনিত কারণে বাড়ি ফিরেও নিজের পড়াশোনা অব্যাহত রাখেন। গর্ভকালীন সময়েও নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং নবজাতক শিশুকে রেখেই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন।
মেধার স্বাক্ষর রেখে চূড়ান্ত ফলাফলেও নিজের স্থান করে নেন সুমাইয়া। কিন্তু অন্যান্য প্রার্থীরা নিয়োগপত্র পেলেও কপাল পোড়ে তার। ভেরিফিকেশনের মারপ্যাচে তার নিয়োগ আটকে যাওয়ায় সুমাইয়া ও তার পুরো পরিবার গভীর হতাশায় রয়েছে।
সুমাইয়া জানান, তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের অনেকের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। অথচ সুমাইয়ার নিজের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো ফৌজদারি বা অন্য কোনো মামলা বা অপরাধের রেকর্ড নেই। সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা ব্যাখ্যা ছাড়াই কেবল ভেরিফিকেশনের অজুহাতে তাকে কেন বাদ দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তার পরিবার ও স্থানীয় সুধীসমাজ।
এ বিষয়ে সুমাইয়া বলেন, ‘গর্ভকালীন এবং নবজাতক সন্তানকে রেখে কত কষ্ট করে প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিয়েছি তা আমি জানি। সব ধাপ পেরিয়ে আজ শুধু ভেরিফিকেশনের কারণে বাদ পড়ায় আমরা পরিবারসহ স্তব্ধ হয়ে গেছি। আমাকে কেন বাদ দেওয়া হলো, সংশ্লিষ্টদের কাছে আমি তার স্পষ্ট কারণ জানতে চাই।’
রাজনৈতিক বা অন্য কোনো অযৌক্তিক কারণে যেন কোনো যোগ্য প্রার্থীর ভবিষ্যৎ এভাবে নষ্ট না হয়, সেজন্য বিষয়টি পুনরায় তদন্ত ও যাচাই করে তাকে দ্রুত শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন সুমাইয়া ও তার পরিবার।