নিজস্ব প্রতিবেদক, পিরোজপুর:
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খাস মহল লতীফ ইনস্টিটিউশনের ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে (রোল-৩৩৬, শাখা-চ) প্রাইভেট পড়ানোর সময় শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক মো. গিয়াস উদ্দীনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে শিক্ষার্থীর বাবা মো. কবির গাজী গত ২৩ আগস্ট ২০২৩ তারিখে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিবরণ:
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ছাত্রী প্রতিদিন সকাল ৭.০৫ মিনিটে শিক্ষক মো. গিয়াস উদ্দীনের কাছে প্রাইভেট পড়তে যেত। প্রাইভেট পড়ার সময় ওই শিক্ষক বিভিন্ন অজুহাতে ছাত্রীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতেন এবং অসৎ উদ্দেশ্যে তাকে একা একা এসে প্রাইভেট পড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। পরবর্তীতে বিষয়টি ছাত্রী তার মায়ের কাছে খুলে বলে। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে ওই ছাত্রীকে অভিযুক্ত শিক্ষকের প্রাইভেট থেকে সরিয়ে অন্য শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়।
মানসিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন:
অন্য শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়া শুরু করার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক গিয়াস উদ্দীন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি বিদ্যালয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালীন ওই ছাত্রীর ওপর বিভিন্নভাবে মানসিক ও শারীরিক চাপ প্রয়োগ করতে শুরু করেন। এছাড়া বিভিন্ন অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ ছাত্রীটিকে লক্ষ্য করে “কীভাবে ৭ম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয় তা দেখে নেব” বলে হুমকি দেন। ক্লাসে অংক করার পর তা দেখতে গেলে শিক্ষকের রোষানলে পড়ে ছাত্রীর মুখের ওপর খাতা ছুঁড়ে মারার মতো ঘটনাও ঘটে। এসব ধারাবাহিক মানসিক নির্যাতন ও হেনস্তার কারণে বর্তমানে ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে যেতে চরম অনীহা প্রকাশ করছে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা:
এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. গিয়াস উদ্দীনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা প্রশাসক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি দিয়ে বিচার প্রার্থনা করেছেন।
এই বিষয় শিক্ষক গিয়াসের সাথে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয় এবং তাহার মোবাইল ফোনে একাদিক বার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।