উপজেলা মেধাক্রম ২য় হয়েও মেলেনি নিয়োগপত্র: বাকরুদ্ধ মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রশ্ন, “আমার অপরাধ কী?”
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফলে চরম বৈষম্য ও রহস্যজনক বাদ পড়ার অভিযোগ তুলেছেন ফার্মেসি বিষয়ে অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করা এক তরুণ প্রার্থী। খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার বাসিন্দা অঞ্জল মল্লিক এর মেয়ে বন্যা মল্লিক উপজেলাভিত্তিক তীব্র প্রতিযোগিতায় মেধাক্রম দ্বিতীয় হওয়ার পরও চূড়ান্ত নিয়োগপত্র না পেয়ে তিনি এখন বাকরুদ্ধ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই হতাশাগ্রস্ত প্রার্থী জানান, জীবনের প্রথমবার তিনি প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগের জন্য আবেদন করেছিলেন। অত্যন্ত কঠোর ও প্রতিযোগিতামূলক প্রিলিমিনারি, লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষা পেরিয়ে উপজেলা মেধাক্রমে তার অবস্থান ছিল দ্বিতীয়।
যেসব বিষয়ে কোনো ত্রুটি ছিল না:
একাডেমিক যোগ্যতা: ফার্মেসি ডিসিপ্লিনে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন। শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সার্টিফিকেটে কোনো ধরনের ত্রুটি বা গরমিল নেই।
পরিবার ও রাজনৈতিক পরিচয়: তার চৌদ্দগোষ্ঠীর কেউ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন।
আইনি রেকর্ড: প্রার্থী কিংবা তার পরিবারের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ফৌজদারি মামলা বা থানায় কোনো অভিযোগ নেই।
স্থায়ী ঠিকানা ও জমিজমা: স্থায়ী বসতবাড়ি এবং জমিজমাসংক্রান্ত কোনো জটিলতা নেই।
একাডেমিক ও অন্যান্য সমস্ত শর্ত শতভাগ পূরণ করার পরও কেন তাকে চূড়ান্ত সুপারিশ বা নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত করা হলো—সেই প্রশ্ন তুলেছেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী। তার ক্ষোভ, “রাষ্ট্রের হয়তো মনে হয়েছে আমি প্রাইমারিতে চাকরি করার পাওয়ার মতো যথেষ্ট যোগ্য নই।”
অনেকে নিয়োগবঞ্চিত হওয়ার পেছনে অসদুপায় অবলম্বনের ইঙ্গিত দিলেও তা জোরালোভাবে নাকচ করে দিয়ে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “যারা বিসিএস বা ব্যাংক জবসের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন, তাদের কি প্রাইমারির প্রিলিমিনারি পাস করতে অসদুপায় অবলম্বন করতে হয়?”
চূড়ান্তভাবে মেধা তালিকায় স্থান পাওয়ার পরও কোন অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে বা কী কারণে তাকে বাদ দেওয়া হলো, সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে তার কেবল একটাই প্রশ্ন—”আমার বাদ পড়ার সুনির্দিষ্ট কারণটা কী?” এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী এই তরুণ।